ফ্রান্সে স্কুলের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সরকারি হিসাবে দেশটির বিভিন্ন শহরে ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন ৫৬ হাজার। আয়োজকদের হিসাবে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা আরও বেশি।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন মঙ্গলবার বড় আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিকল্প ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী কমানো এবং দীর্ঘ স্কুল সময়ের পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
দেশটির প্রায় ১ হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয় মঙ্গলবার অবরুদ্ধ বা বন্ধ ছিল বলে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিস, লিওঁ, রেঁন ও স্ট্রাসবুর্গসহ কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি ব্যবহার করে।
মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন অন্তত ৪৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আন্দোলন শুরুর পর থেকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ২১৫ শিক্ষার্থী এবং ৮৫ জন শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আহত সদস্যের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। লেকর্নু পরিস্থিতিকে কয়েক দশকের মধ্যে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শিক্ষক সংকট রয়েছে, জরাজীর্ণ ভবন ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং পর্যাপ্ত আসবাবের সংকটও রয়েছে।
এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তরুণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ পুলিশি দমন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি কাঁদানে গ্যাস, লাঠি ও অন্যান্য দমনমূলক কৌশল ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং বিক্ষোভের সময় সহিংসতার অভিযোগ তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্কুলের অবকাঠামো, শিক্ষক সংকট ও স্কুলের সময়সূচি নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল প্যারিসের তুলনামূলক দরিদ্র এলাকাগুলোতে। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক, ট্রেড ইউনিয়ন ও অন্যান্য গোষ্ঠীও এতে যুক্ত হয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক